ওগো ভালোবাসা তোমায় দিলাম ছুটি

ওগো ভালোবাসা তোমায় দিলাম ছুটি
তুমি যাও উড়ে যাও আকাশে,
যদি সত্যিই আমার ছিলে, আদৌ যদি আমার ছিলে,
ফিরে আসবেই তুমি জানি।
ওগো ভালোবাসা তোমায়
দিলাম বিদায় – তুমি যাও ভেসে যাও
স্বর্গে যদি স্বর্গীয় সুখ না পাও, অন্তরেও যদি সুখ না পাও,
নরকে যে বেঁচে আছি আমি।।

প্রিয়তম একি ভালোবাসা
কেন মিছেই পাবো মিছেই ব্যাথা
নাহয় আমি মিছে বলি আমি কথা
তবু বেঁচে আছি মিছে আশায়
কখনও সুর কখনও গান
কখনও মাল খসে ভৈরবী দাঁর
গাইবো নতুন সুরে।
ওগো পবিত্রতা তুমি অপবিত্র আমাকে
কতটুকু ভালোবাসো জানি
তোমার অশ্রুর প্লাবন দেখে
অতল জলের নদী
লজ্জা যে পাবে ও সজনী
ওগো রুপের রজনী তুমি
নানান রূপে এসে
রাঙিয়ে আবার বিনোদিনী
তবু ভালোবাসা রূপে নতুন কোন ছদ্মবেশে
কাঁদাতে এসো না সজনী।
প্রিয়তম এসো নতুন রূপে
প্রতিটি প্রহরের প্রথম রোদে
প্রকৃতি মায়ের অন্তরস্থলে
অবাক নিজেকে বিলীন করে
খুঁজে চলছি ভালোবাসা
স্বকীয় নিয়মের সজীবতা
আমি রইবো তোমার মাঝে।
ছিল তোমার সাথে সকল বিরোধ
অন্তর বেদনায় আমি বিভোর
আপন নিয়মে পথ চলা
কারন অকারনে দাড়িয়ে থাকা
তুমি কি ভালোবাসার প্রণোদনা
তুমি কি জীবনের শেষ চাওয়া
নাকি জীবনকে বলছো বিদায়।
ওগো ভালোবাসা তোমায়
দিলাম ছুটি – আমি যাই ভেসে যাই আঁধারে,
যদি সত্যিই আমার ছিলে, আদোও যদি আমার ছিলে,
খুঁজে নিয়ো আমায় আলোতে।
ওগো ভালোবাসা তোমায়
দিলাম বিদায় – তুমি যাও ভেসে যাও স্বর্গে
যদি স্বর্গেও খুঁজে না পাও, বৃথায় এ জীবন বৃথায়,
নরকে যে বেঁচে আছি আমি
নরকে যে বেঁচে আছি আমি
নরকে যে বেঁচে আছি আমি
নরকে যে বেঁচে আছি আমি
ওগো ভালোবাসা।

————–
ওগো ভালোবাসা
কথা, সুর ও সঙ্গীত পরিকল্পনায়ঃ মাকসুদুল হক
এ্যালবামঃ ওগো ভালোবাসা
প্রকাশকালঃ ১৯৯৯

সব কথা বলা হলো বাকি রয়ে গেল শুধু বলিতে

সব কথা বলা হলো
বাকি রয়ে গেল শুধু বলিতে
যে কথা মনের কথা
কতবার থেমে গেছি
বলিতে বলিতে বলিতে বলিতে।।

সব পথ শেষ হলো
আর বাকি নাই পথ চলিতে
তোমার আঙিনাটুকু
পার হতে থেমে গেছি
কতবার চলিতে চলিতে চলিতে।।

সব পাখি গান গায়
সব পাখি দিন শেষে
ফিরে গো কুলায়।
পুড়ে মরে সারাদিন
আকাশে আকাশে
আমার মনের পাখি
কোনোদিন ফিরে না খাঁচায়।
সব কথা শোনা হলো
বাকি রয়ে গেল শুধু শুনিতে।
যে কথা মনের কথা
কতবার হারায়েছি
শুনিতে শুনিতে শুনিতে শুনিতে।।

যারে চাই সেও নাই
আমার মনের আর
কোনো খোঁজ নাই।
ফিরবে না কোনোদিন
ডেকোনা ডেকোনা
নতুন আকাশ পেয়ে
আজ বুঝি ভুলেছে আমায়।
সব কথা বোঝা গেল
এইটুকু পারিনি তো বুঝিতে।
অবুঝ মনের পিছে
এ জীবন গেল কে যে
খুঁজিতে খুঁজিতে খুঁজিতে খুঁজিতে।।

————–
কথাঃ মুকুল দত্ত
কণ্ঠ ও সঙ্গীতঃ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
মুভিঃ মণিহার

যুবতী রাধে (তুমি হও যমুনা রাধে, আমি ডুইবা মরি)

সর্বত মন বলো রাধে বিনোদিনী রাই
বৃন্দাবনের বংশীধারী ঠাকুর কানাই
একলা রাধে জল ভরিতে যমুনাতে যায়
পিছন থেকে কৃষ্ণ তখন আড়ে আড়ে চায়

জল ভর জল ভর রাধে, ও গোয়ালের ঝি
কলস আমার পূর্ণ কর রাধে বিনোদিনী

কালো মানিক হাত পেতেছে, চাঁদ ধরিতে চায়
বামন কি আর হাত বাড়ালে চাঁদের দেখা পায়

কালো কালো করিস না লো, ও গোয়ালের ঝি
আমায় বিধাতা গড়েছে কালো আমি করব কী
এক কালো যমুনার জল, সর্ব প্রাণী খায়
আরেক কালো আমি কৃষ্ণ, সকল রাধে চায়

এই কথা শুনিয়া কানাই বাঁশি হাতে নিল
সর্প হয়ে কালো বাঁশি রাধেকে দংশিল
ডান পায়ে দংশিল রাধের বাম পায়ে ধরিল
মোরা মোরা বলি রাধে জমিনে পড়িলো

মরবেনা মরবেনা রাধে, মন্ত্র ভালো জানি
দুই এক খানা ঝাড়া দিলেই বিষ করিবো পানি

এমনো অঙ্গের বিষ যে ঝাড়িতে পারে
সোনার এই যৌবনখানি দান করিব তারে

এই কথা শুনিয়া কানাই বিষ ঝারিয়া দিল
ঝেড়ে ঝুড়ে রাধে তখন গৃহবাসে গেল
গৃহবাসে যেয়ে রাধে আঁড়ে বিছায় চুল
কদমতলায় থাইকা কানাই ফিক্কা মারে ফুল

বিয়া নাকি করো কানাই, বিয়া নাকি করো
পরেরও রমণী দেখে জ্বালায় জ্বলে মরো

বিয়া তো করিব রাধে , বিয়া তো করিব
তোমার মত সুন্দর রাধে কোথায় গেলে পাব

আমার মত সুন্দর রাধে যদি পেতে চাও
গলায় কলসি বেঁধে যমুনাতে যাও

কোথায় পাব হার কলসি, কোথায় পাব দড়ি
তুমি হও যমুনা রাধে, আমি ডুইবা মরি

—————-
যুবতী রাধে
ব্যান্ডঃ সরলপুর

ইদানিং-২ (যোজন যোজন দূর)

এই জীবন একটা নদী ছিল,
নদীতে প্রাণ নৌকা ছিল,
নৌকাতে মন মাঝি ছিল,
মাঝির হাতে বাঁশি ছিল,
সেই বাঁশিতে ধরল যখন সুর,
তুমি তখন যোজন যোজন দূর।।

চিতায় যেমন মানুষ পোড়ে,
তেমনি করে পোড়ে আমার মন,
সে ধোঁয়াতে জন্মেরে মেঘ,
চোখেতে তাই বৃষ্টি সারাক্ষণ।।
এই চোখে এক আকাশ ছিল,
আকাশ ভরা তারা ছিল,
তারার মাঝে চাঁদটা ছিল,
চাঁদের মাঝে আলো ছিল,
সেই আলোতে ভাঙলো যেদিন রাত,
দেখি তুমি ছেড়ে গেছ হাত।

মাটির তলায় মানুষ ঘুমায়,
সেই ঘুম আমার চোখে রে,
এই জগতে নাই রে আমি,
চলে গেছি অন্যলোকে রে।।
এই মনে একটা বাগান ছিল,
বাগানে এক গোলাপ ছিল,
গোলাপের এক ভ্রমর ছিল,
ভ্রমরের এক বন্ধু ছিল,
দুই বন্ধুতে বুঝল যখন ভুল,
ঝরে গেল অবুঝ গোলাপ ফুল।

——————–
কুমার বিশ্বজিত
কথা ও সুর – আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

আমার মন তো বসে না গৃহ কাজে সজনি গো অন্তরে বৈরেগীর লাওয়া বাজে

আমার মন তো বসে না গৃহ কাজে
সজনি গো
অন্তরে বৈরেগীর লাওয়া বাজে ।।

সজনি গো….
কি করিব কোথা যাব
এ দুঃখ কারে জানাবো
মন মেলে তো মানুষ মেলে না ।।
ওরে কারো কথা কেউ শোনে না গো
হায়রে কারো কথা কেউ শোনে না
যার যেভাবে বোঝে
অন্তরে বৈরাগীর লাওয়া বাজে

সজনী গো…..
লাওয়া তিন তারে টানা
মধ্যের তারে আনাগোনা
প্রেম রসে মধুরও ঝংকারে ।।
আমি মধুরে বঞ্চিত হইলাম ভব রসে মজে
অন্তরে বৈরাগীর লাওয়া বাজে

আমার মন তো বসে না গৃহ কাজে
সজনি গো
অন্তরে বৈরেগীর লাওয়া বাজে ।।

————–
সুরকারঃ সুবল দাশ
গীতিকারঃ মনিরুজ্জামান মনির / মাসুদ করিম

পিরিতে কইরাছে কলংকিনি

পিরিতে কইরাছে কলংকিনি সজনিগো
পিরিতে কইরাছে কলংকিনি।।
( সজনি গো )
কারেবা বলিবো কি যেদিকে ঘুরাই আখিঁ
খাচার পাখি মারে উকি ঝুকি।
আমি আর কত ছাপাইয়া রাখি গো
আমার সাধের যৌবন খানি।।

আমায় ছেরে মথুরায়, কার ঘরে সে রাত কাটায়,
কে এমন সুন্দর গোয়ালিনি।
সেকি আমার মত কুলো বধু গো
নাকি নইদা কুল নাসিনি।।

ভংগ করে রংগের খেলা কেউ যাবিনা কদম তলা,
কেউ সুনবিনা কালার বাসির ধ্বনি।
আমি গানে গানে বলে গেলাম গো
মাতাল রাজ্জাকের কাহিনি।।

—————-
রাজ্জাক দেওয়ান

যদিও রজনী পোহালো তবুও দিবস কেন যে এলো না এলো না

YouTube Preview Image

যদিও রজনী পোহালো তবুও
দিবস কেন যে এলো না এলো না
সজন মেঘের পরান ঝরিয়া
বরিষণ কেন হলো না হলো না

লোকে মরে কলঙ্কিনী নাম দিয়ে
বোঝে না তো কত জ্বালা মনে নিয়ে
বলে বলুক লোকে মানি না মানি না
কলঙ্ক আমার ভালো লাগে

পিরিতি আগুনে জীবন সঁপিয়া
জ্বলে যাওয়া আজ হলো না হলো না
এমন পথ চলা ভালো লাগে না
আমার অঙ্গ দোলে তরঙ্গে তরঙ্গে
কেউ না বাঁধে যদি পথ হারাবে নদী
ভালো লাগে না লাগে না

ভালোবেসে মরি যদি সেও ভালো
ঘর বেঁধে যদি মরি আরো ভালো
এসো এসো হে বঁধূ জ্বলিতে জ্বলিতে
মরণ আমার ভালো লাগে
কপালের লিখা সিঁদুরে ঢাকিয়া
পথ চাওয়া আজ হলো না হলো না

—————–
কণ্ঠ : লতা মঙ্গেশকর
বাঘিনী ১৯৬৮

বিধিরে তুই আমায় ছাড়া রঙ্গ করার মানুষ দেখলি না

বিধিরে তুই আমায় ছাড়া রঙ্গ করার মানুষ দেখলি না
আমার বুকটা ভরে তৃষ্ণা দিলি
সেই পিয়াসা মিটায়
এমন মানুষ দিলি না

আমার গেহ ভরা সুখ দিয়েছিস স্নেহ ভরা মন
স্বভাবটাকে মিছে মিছে করলি উচাটন
এই বেহায়া মনকে বাঁধে
এমন একটা মধুমতি মনকে দিলিনা

আমি বিঁষের জ্বালায় জ্বলে পুড়ি কিসের অপরাধ
পুরলো না মোর এই জীবনের একটুখানি সাধ
দু’চোখ ভরা জল দিয়েছিস
আষাঢ় শ্রাবণ মাসে কোনো সঙ্গি দিলিনা

——————-
গীতিকার/সুরকার – আবু জাফর
কণ্ঠ – ফরিদা পারভীন

নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গাঁয়ে

YouTube Preview Image

নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গাঁয়ে
প্রেমের কী স্বাদ আছে বলো
আঁধার না থাকে যদি কী হবে আলোর
প্রেমের কি স্বাদ আছে বলো

বাঁশি ডেকে বলে যমুনাকে
অপবাদ যতই আসুক
রাই কি কখনও ঘরে থাকে
কলঙ্ক না লাগে যদি
ভালোবেসে লাগে কী ভালো

হৃদয়ের যমুনাকে জানি
লাজ-ভয় সুনীল জলে
ধুয়ে যাবে যত কানাকানি
ফুলের মুখে কান দিয়ে
বিনোদিনী কূল খুঁজে নিল

——————
গীতিকার ও সুরকার – আবু জাফর
কণ্ঠশিল্পী – ফরিদা পারভীন

গাইলে বৈরাগীর গীত গাইও (ডালেতে লরি চরি)

YouTube Preview Image

ডালেতে লরি চরি
বইও চাতকীর ময়নারে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইও

মনো হইলে চাতকিনি
নদীর ফানি খাইও
ফুলো মধু খাইত চাইলে
ফুলো বনে যাইও
চাতকীর ময়না রে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইও

ওরে চাতকীর ময়না
অঙ্গ তর কালা
তর মনে আর আমার মনে
একই তি মোর জ্বালা
চাতকীর ময়না রে
গাইলে বৈরাগীর গীত গাইও

দখিন মুখী হইলেরে ময়না
বাতাস লাগে গাইরে ময়না বাতাস লাগে গাই
পশ্চিম মুখী হইলেরে ময়না
অঙ্গ জ্বলি যাইরে অঙ্গ জ্বলি যাই
উত্তর মুখী হইলেরে ময়না
শীতে খাইবো তাইলোরে ময়না শীতে খাইবো তাইলো
কোনদিন আইবো পরান বন্ধু
আগে মোরে কইওরে আগে মোরে কইও
(………
………)

————
লোকগীতি
কণ্ঠ: তপন চৌধুরী